রূপচর্চায় প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাবধানতা জরুরি
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক: রূপচর্চায় প্রাকৃতিক উপাদানই একমাত্র ভরসা। তবে আমরা আদেও জানি না এর ক্ষতিকারক দিকগুলি।
রূপচর্চার ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটু সাবধান হওয়াটা জরুরি। তা না হলে ত্বকের সমস্যা হতে পারে। আদিকাল থেকেই রূপচর্চায় প্রাকৃতিক উপাদানের গুরুত্ব রয়েছে। আধুনিক যুগেওএর কদর কমেনি। পরিবেশবান্ধব এসব উপাদান ত্বকের জন্য উপকারী। তবে অনেক বেশি ব্যবহার হিতে বিপরীত হতে পারে। এক্ষেত্রে প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটু সাবধান হওয়া প্রয়োজন। ত্বক বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে জানিয়েছেন, প্রাকৃতিক উপাদানের বেশ কিছু ক্ষতিকর দিক রয়েছে, যা আমরা প্রায়ই রূপচর্চার ক্ষেত্রে ব্যবহার করে থাকি। যেমন-নারিকেল তেল,ডিমের সাদা অংশ,দারুচিনি,চিনি,লেবুর রস ও বেকিং সোডা প্রভৃতি।
এক্ষেত্রে ত্বক বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য,ত্বক ও চুলের যত্নে আমরা সাধারণত নারিকেল তেল ব্যবহার করে থাকি। তবে নারিকেল তেল সব ধরনের চুলের ক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্য নয়। যেসব চুলের গোড়ায় তরল পদার্থ চলাচলের রন্ধ্র কম থাকে, সেই সব চুলে নারিকেল তেলের পাতলা স্তর জলপ্রবাহের পথ বন্ধ করে দিতে পারে। এক্ষেত্রে চুল প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা হারিয়ে ফেলে। এর ফলে শুষ্ক হয়ে যায়। অনেকেই ব্রণ ও খুশকি বা প্রাকৃতিক ডিওডোরেন্ট হিসেবে অ্যাপল সিডার ভিনেগার ব্যবহার করে থাকেন। এটি অনেক বেশি অ্যাসিডিক হওয়ার কারণে ত্বকে মারাত্মক রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া হতে পারে। এই ধরনের প্রতিক্রিয়া দূর করার জন্য অ্যাপল সিডার ভিনেগার জলে মিশিয়ে ব্যবহার করা উচিত। এছাড়া ডিমের সাদা অংশ মুখের ত্বকের কুচকানো ভাব দূর করতে সক্ষম হয়। আবার মুখের ত্বক টান টান ও মসৃণ করে তোলার জন্য অনেকেই ডিমের সাদা অংশ ব্যবহার করে থাকেন।
এক্ষেত্রে ডিমের মধ্য দিয়ে সেলমোনেলা নামক এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া পেটে গিয়ে খাদ্যে বিষক্রিয়া ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয় । কাঁচা অবস্থায় ডিম মুখের কাছে না নেওয়াই ভালো। ব্রণের সমস্যা দূর করতে দারুচিনির ব্যবহার অনেকেই করে থাকেন। দারুচিনির একটি ক্ষতিকর দিকও রয়েছে। এটি চর্মরোগ বা ত্বকে লালচে ভাব ও জ্বালাভাবের কারণ হতে পারে। পাশাপাশি মুখের ত্বকের জন্য চিনি উপকারি। তবে বেশি মাত্রায় এটি ব্যবহার করা ঠিক নয়। মরা কোষ দূর করতে চিনি ব্যবহার করেন অনেকে। এটি ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। চিনি ঘা এর মতো ক্ষতও তৈরি করতে পারে, যা ত্বককে অনেক বেশি শুষ্ক করে দিতে পারে। আবার লেবুতে অনেক বেশি ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। অনেকেই বয়সের ছাপ সারানোর জন্য মুখের ত্বকে এটি ব্যবহার করে থাকেন। এক্ষেত্রে লেবুর কারণে ত্বকে হাইপারপিগমেন্টেশন ও জ্বালা ভাব হতে পারে। লেবুর রস ব্যবহারে সাবধানতা অবলম্বন করার দরকার রয়েছে। মানসিক চাপ ও বিভিন্ন ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য স্নানের সময় অনেকেই বেকিং সোডা ব্যবহার করে থাকেন। তবে এর ক্ষারের মাত্রা ত্বককে ক্ষতি করতে পারে।
খবরটি পড়ে ভালো লাগলে লাইক-কমেন্ট ও শেয়ার করে পাশে থাকবেন।

